করোনা শনাক্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে

শীর্ষ খবর সাস্থ্য সিলেট

সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। গত দুইমাস আক্রান্তের হার নিম্নগামী থাকলেও মার্চ মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের হার উর্ধ্বমুখী। হাসপাতালেও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এমনকি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও ( আইসিইউ) রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থায় মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্য বিধি পালনের উপর সরকার ফের কঠোরতা অবলম্বন করছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ৪১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে ২০ জন করোনা পজিটিভ। এদের ১১ জনকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ( আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি ২১ জন রোগী করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ।
হাসপাতালের ডেপুটি আরএমও ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, বর্তমানে সিলেটের করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা সামলাতেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।
গতকাল রোববার ঢাকার শ্যামলীর টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ টিবি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করোনা নিয়ে সামনের দিনে বড় বিপদের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গেল দুই মাস আমরা স্বস্তিতে ছিলাম, তাই এখন আমরা কোনো কিছু মানছি না। সামনের দিকে আমরা আরো বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছি যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে আমার কাছে কখনোই আইসিইউ বেডের জন্য কোনো অনুরোধ আসেনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফোন পাচ্ছি আইসিইউ বেড পাওয়া যাচ্ছে না, দেন। এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন। আগে আমরা দেখছিলাম যাদের কোমর্বিডিটি আছে তাদের আইসিইউ লাগত। এখন ইয়াং, ভালো, সুস্থ, তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন।
সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, সংক্রমণ একটু কমেছে বলে সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছি, যা মোটেই কাম্য নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সিলেটের সর্বত্র মানুষের মধ্যে চরম উদাসীনতার কারণে ফের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, এটা উদ্বেগজনক। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক জনসমাগমে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলায় চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ওপর জোর দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত শনিবার এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে গতকাল রোববার তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গত কয়েক মাসের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্রমণের হার রোধের জন্য সবক্ষেত্রে সবার মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।