সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বারের নির্বাচন আজ

312

সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচন আজ শনিবার। ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। এ উপলক্ষে সিলেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরীর ধোপাদীঘিরপাড়স্থ ইউনাইটেড কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ২ হাজার ৪শ ৬৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে দু’টি প্যানেলে প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমশিন সূত্র জানায়, এ বছর পরিচালনা পরিষদের ২২টি পদে সর্বমোট ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে ২৪ জন, এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে ১০ জন এবং ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। টাউন এসোসিয়েশন শ্রেণিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ওই শ্রেণির একমাত্র প্রার্থী শমশের জামালকে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বমোট ২ হাজার ৪৬৫ জন ভোটারের মধ্যে অর্ডিনারি ১৪১৩ জন, এসোসিয়েট ১০৪০ জন, ট্রেড গ্রুপ ১১ জন ও টাউন এসোসিয়েশন ১ জন ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনে অর্ডিনারি শ্রেণিতে প্রত্যেক ভোটারকে ১২টি ভোট, এসোসিয়েট শ্রেণিতে প্রত্যেক ভোটারকে ৬টি ভোট এবং ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে প্রত্যেক ভোটারকে ৩টি ভোট অবশ্যই প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যার চাইতে ভোট বেশি বা কম হলে ব্যালট পেপার বাতিল বলে গণ্য হবে।
সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গেল ১৫ দিন ধরে উৎসবের বিরাজ করছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। নির্বাচনের আমেজ শুধু যে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা নয়, সিলেটের সকল শ্রেণি- পেশার মানুষ এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে চেম্বারের বর্তমান প্রশাসক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নির্বাচনে সিলেটের পেশাজীবীসহ অনেককে সম্পৃক্ত করেছেন। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে দু’টি প্যানেল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে- সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও অপরটি হচ্ছে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। দুই প্যানেলের পক্ষে ব্যবসায়ীরা বিভক্ত হয়ে প্রচারণায় চালিয়েছেন। তাদের সঙ্গে বিভক্ত ব্যবসায়ীরাও।
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- অর্ডিনারি শ্রেণিতে এহতেশামুল হক চৌধুরী, মো. সাহিদুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মুশফিক জায়গীরদার, মো. আবদুর রহমান জামিল, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী, মো. শফিকুল ইসলাম, শান্ত দেব, মো. আবদুস সামাদ, খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান, আলীমুল এহছান চৌধুরী।
সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন আবু তাহের মো. শোয়েব, মো. মামুন কিবরিয়া সুমন, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, হুমায়ুন আহমদ, মো. ফারুক আহমদ, মো. নজরুল ইসলাম, জুবায়ের রকিব চৌধুরী, আক্তার হোসেন খান, আবদুল হাদী পাবেল, শহিদ আহমদ চৌধুুরী ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম। অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতেও একটি প্যানেল হয়েছে। ঐ প্যানেলে রয়েছেন মাসুদ আহমদ চৌধুরী মাকুম, মো. এমদাদ হোসেন, পিন্টু চক্রবর্তী, আবদুর রহমান, চন্দন সাহা, মো. আতিক হোসেন। এর বাইরে অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতে ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আবুল কালাম ও মনোরঞ্জন চক্রবর্তী সবুজ প্রার্থী। ট্রেড গ্রুপে মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মসফিক, মো. নুরুল ইসলাম, তাহমিন আহমদ, মো. আমিনুজ্জামান জোয়াহির ও ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান জানিয়েছেন-ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সিলেটের সকল মহলের সহযোগিতায় শেষপর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার ব্যাপারে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট চেম্বারের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন- নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার ভোটগ্রহণের পালা। ভোটগ্রহণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।