সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হাসপাতালে ভর্তি

জাতীয় শীর্ষ খবর

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা এখন ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজির অধ্যাপক আবু নছর রিজভী বলেন, “আপাতত উনার অবস্থা স্টেবল। প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় শ্বাস কষ্ট হয়েছিল। আমরা ভর্তি করে রেখেছি। হয়তো কাল রিলিজ দেব।”
মাত্র দশ মাস আগে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। এখনো নির্দিষ্ট সময় পরপর তাকে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে হয়।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মন্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডি ব্লকে সিসিইউতে রেখে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। “অধ্যাপক আলী আহসান এবং আবু নছর রিজভী জানিয়েছেন, স্যারের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রক্তচাপও স্বাভাবিক হয়ে আসছে।”
গতবছর ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়েই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রামে তার হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।
কয়েকদিন চিকিৎসার পর ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। চিকিৎসার জন্য তখন আড়াই মাস তাকে সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভালোর দিকে বলেছেন চিকিৎসকরা জানান। তারা জানান,তিনি দুই কাপ স্যুপও খেয়েছেন। এখন তার প্রেসার প্রায় স্বাভাবিক – ১৩০/৮০।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এ তথ্য জানান। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে গিয়ে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন ওবায়দুল কাদের। পরে সেখান থেকে তিনি বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন।
ওবায়দুল কাদেরের শারিরীক অবস্থার বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান জানান, স্যুপ খাওয়ার পর খানিকটা সুস্থ্যবোধ করছেন ওবায়দুল কাদের। বাসায় ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। বাসায় গিয়ে বিশ্রামে থাকলে সমস্যা হবে কি না তা বারবার জানতে চেয়েছেন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ফের সিঙ্গাপুরে যাবেন কি না সে প্রশ্নও করা হয় ওবায়দুল কাদেরকে।
জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি, এখনই আর সিঙ্গাপুরে যেতে চাই না।’ এদিকে তাকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে আসছেন শুনে অনেকটা চাঙা অনুভব করেন ওবায়দুল কাদের। চিকিৎসক ডা. মোস্তফা জামানকে তিনি বলেন, ‘আপা, খোঁজ-খবর নিয়েছেন তাতেই আমি কৃতজ্ঞ। আর আমি তো এখন ভালো আছি। আপার কষ্ট করে আসার দরকার নেই।’
দলের সাধারণ সম্পাদক সুস্থ আছেন বার্তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিএসএমএমইউ’র আসার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে বলে জানান ডা. মোস্তফা জামান।
এদিকে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বিএসএমএমইউতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমিয়েছে। যে কারণে তাকে আগামীকাল রোববার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছিলেন বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। তিনি বলেছিলেন, ‘উনার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। একটু প্রেশার বেড়ে গিয়েছিল। তবে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। আমরা মোটামুটি ট্যাকেল করেছি। উনি এখন শান্ত আছেন। ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়েছে। উনি এখন রেস্টে আছেন। উনার রেস্ট প্রয়োজন।’
উন্নত চিকিৎসার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে দেশের বাইরে পাঠানো হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি সময়ের ব্যাপার।’
আলী আহসান আরও জানিয়েছিলেন, ‘উনি তো ভালোই ছিলেন। কর্মজীবনে একটু স্ট্রেস (চাপ) হয়। সামনে ইলেকশন আছে। এই স্ট্রেসে হয়তো…। আবার উনার একটু ঠাণ্ডা আছে। এখন তো ঘরে ঘরে ঠাণ্ডা জ্বর-সর্দি হচ্ছে। তবে উনি আশঙ্কামুক্ত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *