সিলেটে দুই দফা ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল

Uncategorized

সিলেটে দুই দফা ভূকম্পনে রাজা জিসি উচ্চবিদ্যালয়ের দোতলা ভবনের নিচতলায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ওই ভবনের নিচতলায় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের অফিস ও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিদ্যালয়টির অবস্থান সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকায়। ফাটল দেখা দেওয়ার খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঝুঁকি এড়াতে ভবন ভেঙে ফেলার কথা জানিয়েছেন।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. আবদুল মুমিত বলেন, বিদ্যালয়ে ফাটল দেখা দেওয়া ভবনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ মঙ্গলবারই নেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। সাড়ে ছয়টায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সিলেটেই। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮।

 

 এ ভবনের বেশ কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আমার মতে এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
এটি ভেঙে ফেলতে হবে- আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের মেয়র
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ১৮৮৬ সালে রাজা জিসি উচ্চবিদ্যালয় স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে একটি ভবন নির্মিত হয়। ২০১৭ সালে ভবনটির দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। গতকাল ভূমিকম্পের পর ওই ভবনের নিচতলার কক্ষগুলোর ভেতর ও বাইরে পিলারসহ দেয়ালগুলোতে ফাটল দেখা দেয়। ভবনটি নির্মাণের কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ফাটলের খবর শুনে গতকাল রাতেই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ভবনের বেশ কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আমার মতে এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এটি ভেঙে ফেলতে হবে। এরপরও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, বিদ্যালয় ভবনের পেছনে একটি দিঘি ছিল। সেটি ভরাট করে এখানে মার্কেট বানানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটিæআছে কি না, সেটিও দেখা হবে।

এদিকে সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্প হওয়ায় করণীয় নির্ধারণে আজ বুধবার প্রকৌশলী ও নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নগর ভবনে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সিলেটে গত ৩০ মে ভোররাত ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে এবং ২৯ মে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে, ১০টা ৫০ মিনিটে, ১১টা ৩০ মিনিটে ও ১টা ৫৮ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়েছিল। সবগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের ভারত সীমান্তবর্তী ডাউকি এলাকায়।