সিলেটে এইডস আক্রান্ত ৪১২ জনই মারা গেছেন

সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৬ জন; আর আক্রান্তদের মধ্যে ৪১২ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বাকীদের মধ্যে ৫২৯ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মৌলভী বাজার জেলা সদর হাসপাতালে অবস্থিত এআরটি সেন্টার হতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) বিশ্ব এইডস দিবসে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ অনুষ্ঠানে হাসপাতালের নবাগত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের জন্য সিওমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধা আরো বিস্তৃত করা হবে। সিলেট বিভাগের এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সবচেয়ে বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানে পিসিআর টেস্ট এবং ভাইরাল লোড টেস্টিং সহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব মানুষকে সেবাপ্রদান করে আমাদের চিকিৎসকগন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

হাসপাতালের আবসিক চিকিৎসক এবং এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র এআরটি সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডাঃ আবু নঈম মোহাম্মদ বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে এইচঅঅইভি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এতে করে নিয়মিত চিকিৎসার কারণে আক্রান্ত ব্যাক্তিগন এখন অনেক ভাল আছেন।’

গাইনী বিভাগের প্রধান অধ্যপক নাসরিন আক্তার জানান চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় এইচআইভি আক্রান্ত অনেক মা এইচআইভি মুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এপর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালের ৬০ জন এইচআইভি আক্রান্ত মা “মাহতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ” কার্যক্রমের আওতায় এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ হিমাংশু লাল রায় তার বক্তব্যে এইচআইভি প্রতিরোধে হিজড়া জনগোষ্ঠি সহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সেবরা আওতায় নিয়ে আসর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন,‘যেহেতু অভিবাসী অধ্যূষিত এলাকা তাই এখানে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমের আঙ্গীক একটু ভিন্ন রকমের হতে হবে। প্রয়োজনের কোভিড-১৯ পরীক্ষার মতো বিমান বন্দর সমূহে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এর আগে দিনের শুরুতে হাসপাতালের সম্মূখস্থ গোলচত্বরে স্ট্যাডিং র‌্যালির আয়োজন করা হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের স্ব্যাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে র‌্যালীসহ এইডস দিবসের যাবতীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধ্যাপক, চিকিৎসক, সেবিকা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতাগন অংশ গ্রহন করেন। র‌্যালী শেষে হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য যে, সরকারী অর্থায়ানে এইডস রোগীদের মধ্যে ওষুধ এবং অন্যান্য সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে এইচআইভির নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় এই দুটি হাপসাতালে পিএমটিসিটি প্রকল্প চলমান আছে।