সিলেটের ডাকে যোগ দিলেন সাংবাদিক এনামুল হক জুবের

সাঈদ চৌধুরী :
সিনিয়র সাংবাদিক ও সুলেখক এনামুল হক জুবের জনপ্রিয় দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক (সিএনই) হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগেও তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৯ বছর সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এই দৈনিকের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঝখানে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক এনামুল হক জুবের স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। তার কাজের ধরণ অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা। সিলেটের সাড়া জাগানো সংবাদপত্র দৈনিক সিলেটের ডাকের বার্তা সম্পাদক হিসেবে তিনি ছিলেন বেশ সফল। নিজের লেখার পাশাপাশি একঝাঁক তরুণের ভেতর থেকে অসাধারণ সব প্রতিবেদন তিনি আবিষ্কার করতেন।
লেখক ও সংগঠক হিসেবে তার সাফল্যে সিলেটের ডাক পাঠক নন্দিত হয়েছে। তিনি অসংখ্য মেধাবী সাংবাদিক সৃষ্টির সফল কারিগর। নিরলস মেধা, পরিশ্রম ও সাহসিকতায় নিজের অবস্থানকে অদ্বিতীয় হিসেবে তৈরী করেছেন। তার হাত ধরে বৃহত্তর সিলেটে সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অঙ্গণের অনেক তারকা। তিনি একজন অতিশয় পরোপকারী ও মহৎপ্রাণ মানুষ।
পদ্ধতি বা পরিকল্পনা মাফিক (সিস্টেম্যাটিক) অনুসন্ধান, গভীর (ইন-ডেপথ) ও মৌলিক গবেষণা এবং গোপন তথ্য উন্মোচনে সিলেটে এনামুল হক জুবেরের জুড়ি মেলা ভার। স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনে আসন ভিত্তিক বিশ্লেষণে তার হিসেব এখনো শতভাগ না হোক, শীর্ষে থাকে। উন্মুক্ত তথ্য (পাবলিক ডাটা) ব্যবহারে তার প্রতিবেদন পাঠকের হৃদয় আকৃষ্ট করে। তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অনেক লুকিয়ে থাকা তথ্য পাঠকের সামনে চলে আসে। যদিও ক্ষমতাবান কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এসব তথ্য গোপন রাখেন। যেগুলো শুধু বিশ্লেষণাত্মক নয়, কোনো একটি বিষয়কে গভীর ভাবে তলিয়ে দেখার প্রচেষ্টাও বটে।
সিলেটের ডাকে এনামুল হক জুবের সাংবাদিকতার অনেক কৌশল ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চেয়েও ব্যাপক। এতে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রণালি অনুসরণ করতেন। প্রতিবেদনগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কত ব্যাপক গবেষণা আর কঠোর শ্রম এর পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। কঠিন একাগ্রতা, আর বিষয়ের গভীরে যাওয়ার নিষ্ঠা আছে বলেই এই স্টোরিগুলো জনগণের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হত। অত্যন্ত জোরালোভাবে বিভিন্ন বিষয় তিনি তুলে ধরতে পেরেছেন।
আশি ও নব্বই দশকে সিলেটের সাংবাদিকতায় তরুণদের ব্যাপক উৎসাহ ছিল। চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকেই আমরা বেছে নিয়েছিলাম। অনেক মেধাবী তরুণ সাংবাদিকতা পেশায় এসেছেন। যাদের রিপোর্ট আলোচনায় ছিল, যারা নজরকাড়া প্রতিবেদন করেছিলেন। আমাদের মধ্যে যারা ভাল করেছেন এনামুল হক জুবের তাদের অন্যতম। সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধানের কৌশল নির্বাচন, তথ্যের জন্য প্রাথমিক সোর্সের ওপর নির্ভর করা, একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তাকে পরখ করে দেখা এবং সবশেষে নিখুঁতভাবে সত্যতা যাচাই করাই ছিল তার কাজ। যে ধারা তিনি এখনো অব্যাহত রেখেছেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক জুবের গ্র্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃত, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সম্পাদক এবং মাসিক আল ইসলাহ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, ভাষা সৈনিক মরহুম মুহম্মদ নুরুল হকের দ্বিতীয় পুত্র।