শিক্ষাব্যবস্থায় অতিরিক্ত পরীক্ষা নির্ভরতা কমাতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা এমনভাবে তৈরি করতে চাই যেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষা নির্ভরতা থাকবে না। আমরা মূল্যায়ন বলতেই পরীক্ষা বুঝি।

সবার মধ্যে সনদ সর্বস্ব মানসিকতা রয়েছে। শিক্ষা একটা নিরানন্দ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার এডুকেশন রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘অভিষেক ২০২০-২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনেক সময় পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক ও পারিবারিক চাপ তৈরি করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই চাপ কমাতে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যেন শুধুমাত্র বইয়ের মধ্যে ডুবে না যায়, শিক্ষার্থীদের সামাজিক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যেও নিজেদের ব্যস্ত রাখতে হবে।

এছাড়াও বিজ্ঞান শিক্ষায় টুলকিট সরঞ্জাম বৃদ্ধি করার কাজ করছে সরকার। এছাড়াও মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে আগেই সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দীপু মনি আরো বলেন, আমাদের উন্নত মানসিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম, আমার ইতিহাস, পরিবেশ সব কিছু সম্পর্কে জানতে হবে।

সামনে আমাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। তা না হলে শিক্ষাব্যবস্থায় হাজার পরিবর্তন করেও কোন লাভ হবে না। শিক্ষায় মান উন্নয়ন করতে গেলে শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত আছে, কী কী প্রশিক্ষণ আছে তা নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ডিজিটাল ক্লাসরুম নিয়েও আমরা কাজ করছি। এছাড়াও অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক কাজ করছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা নিয়ে যে কথা বললাম অনেক সময় পত্রিকায় ঠিক সেভাবে এলো না। অনেক সময় দু’একটা শব্দের পরিবর্তন হয়। যে কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে যায়। এজন্য সাংবাদিককের বিনয়ের সঙ্গে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

দীপু মনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম বিনিয়োগ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বিদ্যালয় ও জাতীয়করণের ক্ষেত্রে এজন্য আমরা বলি ‘সেই বঙ্গবন্ধু করেছিলেন, এরপর তার কন্যা করলেন’। শুধু শিক্ষায় নয় শিল্প, বিজ্ঞান সব জায়গাতেই একইভাবে উন্নয়ন হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আমার শৈশব কেটেছে একটি পত্রিকার প্রেসের মধ্যে। এ কারণে যেকোনো অনুষ্ঠানেই সাংবাদিকরা যখন আমন্ত্রণ জানান আমার মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

ইরাবের দায়িত্বে নতুন যারা এলেন তাদেরকে আরো এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। এছাড়াও যারা পুরস্কার পেলেন তাদেরকে অভিনন্দন জানান।