লালাখাল- পান্না সবুজ সারি নদী.

মিলু কাশেম :
প্রকৃতি কণ্যা সিলেটের এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি লালাখাল। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে
লালাখালের অবস্থান।ভৌগলিক ভাবে লালাখাল সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত।সিলেট জাফলং মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার দূরে সারি নদীর তীরে সারিঘাট। এখান থেকে নৌপথে অথবা সরাসরি সড়ক পথে যেতে হয় লালাখাল।
মেঘালয় পর্বত শ্রেণীর সবচেয়ে পূর্বের অংশ জৈন্তা হিলসের পাহাড় প্রাকৃতিক বন চা বাগান ঘেরা একটি সবুজ জনপদ লালাখাল। জৈন্তা হিলসের ভারতীয়
অংশ থেকে পাহাড়ী মাইন্ডু (Myntdu) নদী লালাখাল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সারি নদী নামে ভাটির দিকে প্রবাহিত হয়ে সারিঘাট দিয়ে গোয়াইন নদীর সাথে মিশেছে।লালাখাল থেকে সারিঘাট পর্যন্ত সারি নদীর ১২ কিলোমিটার পানির রঙ পান্না সবুজ।
পুরো শীতকাল ও অন্যন্য সময় বৃষ্টি না হলে এই রঙ থাকে।মুলত জৈন্তা পাহাড় থেকে আসা প্রবাহমান পানির সাথে মিশে থাকা খনিজ এবং কাঁদার পরিবর্তে
নদীর বালুকাময় তলদেশের কারনেই সারি নদীর পানির রঙ সবুজ দেখায়।
সিলেট জাফলং মহাসড়কের সারিঘাটে সারি ব্রিজের উত্তর পাড়ের পূর্ব দিকে
লালাখাল যাবার জন্য নাজিমগড় রিসোর্টের একটি বোট স্টেশন আছে।তাছাড়া সারিঘাট থেকে বিভিন্ন
ধরনের ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে লালাখাল যাওয়া যায়।লালাখালে সারি নদীর তীরে মনোরম প্রাকৃতিক
পরিবেশে রিভারকুইন নামে নাজিমগড় রিসোর্টের একটি রেস্টুরেন্ট আছে।সব অতিথিদের জন্য এটা উন্মুক্ত। এর পাশে আছে “এডভেঞ্চার ট্যান্ট ক্যাম্প”।
এডভ্যাঞ্চার প্রিয় পর্যটকরা এখানে রাত্রি যাপন করতে পারেন।নদী পেরিয়ে লালাখাল চা বাগানের ভিতর দিয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা হাঁটার পথ
(ট্রেকিং ট্রেইন) এ ছাড়া কাছাকাছি পাহাড়ের ঢাল ও চূড়ায় গড়ে উঠেছে নাজিমগড়ের বিলাস বহুল নতুন
রিসোর্ট “ওয়াইন্ডারনেস”।আবাসিক অতিথি ছাড়া এখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।
নৌপথ ছাড়াও সড়ক পথে লালাখাল যাওয়া যায়। সারিঘাটের সারি ব্রিজ পেরিয়ে সড়কের মধ্যখানের পুরনো স্থাপনা পার হয়ে ডান দিকের রাস্তা দিয়ে সাত কিলোমিটার গেলেই সরি নদীর তীরে লালাখাল। নদীর ঘাট থেকে সামান্য দূরে বাংলা ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সারি নদীর উৎস মুখ।এখান থেকে নৌকা নিয়ে চা বাগান জিরো পয়েন্ট ঘুরে আসা যায়।
সারি ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ঘন্টা সোয়া ঘন্টা সময় লাগে সারি নদীর উৎস মুখ জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে যেতে।নদীর পানির পান্না সবুজ রঙ আর দুই পাশের সবুজ গ্রাম পাহাড় সারির ছায়া আর নদী থেকে বালু উত্তেলনের দৃশ্য যেতে যেতে পর্যটকদের মুগ্ধ করে।উৎস মুখে নদীর ডান পাড়ে সীমান্ত ঘেষা অপরূপ লালাখাল চা বাগান।সড়ক পথে
গিয়ে রিভারকুইন থেকে বিশেষায়িত নৌকায় আধা ঘন্টায় জিরো পয়েন্ট ঘুরে আসা যায়।
লালাখাল ভ্রমনকারীরা চাইলে রিভারকুইন রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে পারবেন।দাম কিছু বেশী হবে।লালখাল
বাজারে ও খাবারের হোটেল রয়েছে।তবে খাবার সাথে নিয়ে গেলে ভাল।
লালখাল বছরের সব সময় ভ্রমন করা যায়।শীতকালে পর্যটক সমাগম বেশী হয়।কিন্তু এই অঞ্চলেরর পাহাড়ের সবুজ, মেঘ ও ঝর্ণার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বর্ষাকালে। বর্ষায় সিলেট থেকে লালখাল ভ্রমন এক অনন্য অভিজ্ঞাতা।অদূরে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে ঘন সবুজে ঢাকা খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়।
সবুজের মাঝে মেঘের খেলা দূরান্ত খেলা আর অনেক গুলো ঝর্ণার উচ্ছাস দেখে পর্যটকদের মন হারিয়ে যায়।সিলেটে বর্ষা সাধারনত দীর্ঘ হয়।সেই হিসাবে
এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লালখাল ভ্রমনের উপযুক্ত সময়।তাই সময় সুযোগ পেলে ঘুরে আসা যায়
সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪২ কিলোমিটার দূরের সৌন্দর্যের লীলানিকেতন লালাখাল আর পান্না সবুজ জলের নদী বাংলা দেশের নীল নদ সারি।অবশ্যই ভালো লাগবে।
————————————-
ছবি-মিলু কাশেম