রোগি যখন চালক

অনুগল্প সাহিত্য সিলেট

তাসলিমা খানম বীথি :
সেদিন প্রচন্ড মন খারাপ ছিলো। হসপিটালের ডিউটি শেষ করে বের হতেই হঠাৎ এক সিএনজি সামনে এসে থামলো। সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছে কেমন আছেন আপা, গাড়ীতে ওঠেন পৌছে দেবো। বললাম পয়েন্টে গিয়ে সিএনজিতে ওঠবো। আপনি কী আমাকে চিনেন মাস্ক নামাতেই চিনতে পারি। তিনি ফ্রিডম হসপিটালে ভর্তি রোগি ছিলেন। চালকের অনুরোধে গাড়ীতে ওঠি। কোথায় যাবো – ক্বীনব্রীজে। চালক একের পর এক কথা বলছে- আম্মা সবসময় আপনার কথা বলে। আপনি যখন কেবিনে কথা বলতেন আমি সুস্থ হবো, মনের সাহস বেড়ে যেতো। বাঁচার স্বপ্ন দেখতাম। আপা কথা বলছেন না যে-আপনার কি মন খারাপ? সুরমার কাছে নেমে যাই। ব্রীজে উপর থেকে আকাশকে বড্ড কাছে মনে হয়, তাই মন খারাপে ছুটে যাই। আকাশে দিকে তাকিয়ে একা একা কথা বলি। সুরমা নদীর সিন্ধগ্ধতা কোমল হিমেল বাতাসে, পিচ্ছিদের আদা লবঙ্গ দিয়ে রং চায়ে মন ভালো করে রিকশা ডাকতেই দেখি আবার সেই সিএনজি চালক-বললাম ভাই আপনি চলে যান আমি রিকশা যেতে পারব। চালক জবাব দেয়-আপনাকে বাসায় পৌছে তবে যাবো, আমাকে কোন ভাড়া দিতে হবে না। আপনি না করবেন না। আপনার কথা যখন আম্মাকে বলব খুব খুশি হবে।
বাসার গেইটে সামনে নামতেই ভাড়া নিতে জোর করি। আমার প্রতি এতটা দায়িত্ব আর ভালোবাসায় অবাক হই। সালাম দিয়ে তার গন্তব্য ছুটে যাচ্ছে। আমিও ভুলে গেলাম মন খারাপের কথা। ভালো থাকুক প্রিয় কর্মস্থল ফ্রিডম হসপিটালে প্রতিটি রোগি।

তাসলিমা খানম বীথি

পিআরও
ফ্রিডম জেনারেল হাসপাতাল
এয়ারর্পোট রোড আম্বরখানা সিলেট