মায়ের উনত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী আজীবন অম্লান যে স্মৃতি…

তাইসির মাহমুদ: দিনটি ছিলো শুক্রবার। ঘড়ির কাটা তখন দুপুর সাড়ে ১২টায়। জুমার নামাজে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। হঠাৎ বড় বোনের ডাক- ‘আম্মা কেমন যেন করছেন, তাড়াতাড়ি এসো”। দ্রুতপায়ে ঘরে ঢুকলাম।
প্রায় ৬ মাস যাবত আম্মা শয্যাশায়ী । স্যালাইন ছাড়া আর কোনো খাবার নেই। নেই কোনো কথাবার্তা । কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখি তিনি চারদিকে তাকাচ্ছেন। উঠে বসতে চেষ্টা করছেন। কিছু একটা যেন বলতে চাচ্ছেন। কিন্তু বলার সামর্থ নেই।
আমরা ভাই বোন সকলেই মায়ের বিছানার চারপাশে গোল হয়ে বসে পড়লাম। আঁচ করতে পারছিলাম, মায়ের দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে আসছে। কাছে বসে পড়াশোনা শুরু করলাম । এভাবে সময় গড়িয়ে যেতে থাকলো। হঠাৎ তাঁর শরীরটা খানিক ঝাকুনি দিয়ে ওঠলো। আর সাথে সাথে নিস্তেজ হতে থাকলেন তিনি । আমাদের বুঝতে আর বাকি থাকলো না, মায়ের আত্মা বেরিয়ে গেছে মহান মাবুদের সান্নিধ্যে। মায়ের চোখদুটো বুজে দিয়ে, সারা শরীর কাপড়ে ঢেকে দিলাম। এরপর গোসল, জানাজা, দাফন। মাকে চিরবিদায় জানালাম আড়াই হাত মাটির বিছানায়।
সেই দৃশ্যটি চির অম্লান হয়ে আছে। জীবনের অনেক ঘটনাই স্মৃতি থেকে মুছে গেছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর দৃশ্যটি কোনোদিন মুহুর্তের জন্যও ভুলতে পারিনি। পারবোও না কোনোদিন। আমার বিশ্বাস, কোনো সন্তানই মায়ের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের দৃশ্য মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনা।
মৃত্যুর সময় মায়ের পাশে ছিলাম। এটা ছিলো জীবনের সবেচেয়ে বড় সৌভাগ্য । পাশে ছিলাম বলেই এই স্মৃতিটুকু মনের মনিকোঠায় অম্লান হয়ে আছে । আর অম্লান আছে বলেই তাঁর জন্য সবসময় মন উজাড় করে বলতে পারি- ‘রাবিবর হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা’।
আজ মায়ের উনত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯১ সালের এই দিনে তিনি অনন্ত জীবনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন। জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন- সকলের কাছে এই দোয়া চাই। আমাদের সকলের মা-বাবাকে তিনি যেন জান্নাতে পরম শান্তিতে রাখেন। আমিন।

লন্ডন, যুক্তরাজ্য
৮ নভেম্বর ২০২০