মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠার কোন বিকল্প নেই

শীর্ষ খবর সার্ভিস ক্লাব সিলেট

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের (বিএমবিএফ) চেয়ারম্যান বিচারপতি সিকদার মকবুল হক বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন সরকারের হাতেই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাজ নির্দিষ্ট করা আছে। যখন তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে না তখনই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। সরকার দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলছে। অথচ বাস্তবে এর সত্যতা পাওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু নি¤œ পর্যায়ের মাদককারবারীদের ধরলেও গদফাদারদের ধরা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সম্পদের সুষ্ঠু বণ্ঠন হচ্ছে না। প্রতিটি শিশু ৮০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। বর্তমানে খাদ্যে ভেজালের মাত্রা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এমতাবস্থায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের কাছ থেকে বাধা আসবেই। তবে মানবাধিবার কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো বাধাই টিকবে না।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক মানাবাধিকার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
এর আগে সকাল ১০টায় সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রশিকা ও মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সমাজবন্ধু ড. কাজী ফারুক আহমদ। পরে নগরীতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।
সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব এস এম সাইফুর রেজা।
উদ্বোধকের বক্তব্যে সমাজবন্ধু ড. কাজী ফারুক আহমদ বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। অথচ এই বাংলাদেশই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে মানবাধিকার লংঘনের অবসান করেছিল। তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রথমে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। মানবাধিকার লংঘনকারীরা রাজনৈতিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে সবল হয়। তাই তাদের মোবাবিলা দলবদ্ধভাবে করতে হবে, যাতে ক্ষতি কম হয়। পরিতাপ নয়, ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *