মতামত

বিবিদ সিলেট

আজ আমি স্বপ্ন দেখলাম বা নিজের মত করে স্বপ্ন তৈরি করলাম যে আমি এটা হয়ে যাব বা ঐটা হয়ে যাব তাতেই কি যা ভাবতেছি তা হয়ে যাব?
সম্ভবত না; তার জন্য অনেক শ্রম, মেধা, ত্যাগ, তিতিক্ষা, সময়ের প্রয়োজন। তবেই ত কাঙ্খিত সফলতা আসতে পারে। মোটকথা মানুষ যা স্বপ্ন করে তা পূরণ বা পাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তা করে সফলতার জন্য আশা করতে পারে। আমি একটা কিছু অর্জনের জন্য কিছুই ব্যয় করলাম না তা না পেলে কষ্ট পাওয়া সঠিক যৌক্তিকতা নয়। আবার অনেকে শ্রম, মেধা, ত্যাগ, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সময় ব্যয় করে যখন কাঙ্খিত অর্জন থেকে বঞ্চিত হয় তখন তার কষ্টটা লাঘব করার মত শক্তিটা তার কাছে নাও থাকতে পারে।
আমরা সবাই সময়ের পরিক্রমায় আবদ্ধ। যে উদ্দেশ্যে সময়ের ছকে জীবনটা আঁকা – বলতেছি বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতির কথা। আমি কোন রাজনৈতিক বিচার বিশ্লেষক নই বা রাজনীতির মারপ্যাঁচটা ও এতটুকু বুঝি না। সাদামাটাভাবে দু একটা কথা বলতে চাই। আজকে যারা ছাত্ররাজনীতি করে জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয় করে তারা সবাই কি ছাত্ররাজনীতির আইডল হতে পারে?
কেউ শুধু সময় ব্যয় করে, কেউ রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়ে, কেউ আনুগত্যশীল কর্মী হয়ে থাকে, আবার অনেকে অনেক রকম থাকে। আমি বলছি তাদের কথা যারা মফস্বল থেকে উঠে এসেছে একবুক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করছে, পরিবারের অনেকের ইচ্ছা নেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ুক তবুও কোন এক আর্দশ নিয়ে অনেকে রাজনীতির পথটা বেচে নেয়। রাজনীতি নিয়ে সে স্বপ্ন দেখে, সে স্বপ্ন দেখায়। সবাই আবার সেই কাঙ্খিত স্বপ্নের কাছে যেতে পারে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় সে যে সংগঠনের পিছনে ব্যয় করে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে তার ত্যাগ, সময়ের মূল্যায়ন দেয়া উচিত। সংগঠনের জন্য ডেডিকেটেড, ত্যাগীরা যখন উপযুক্ত পদ, আসন থেকে বঞ্চিত হয় তখন সংগঠনের সাংগঠনিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।
রাজনীতিটা অনেকে কাছে শিল্প। সে শিল্পের মত কদর করে লালন করে। আর যারা রাজনীতিটা দেশের জন্য জনগণের জন্য লালন করে তারাই প্রকৃত রাজনীতিবিদ। আমি যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি তখন আমি রাজনীতির ছত্রছায়ায় ছাত্রসংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। যদিও এত সময় রাজনীতির মাঠেঘাটে দিতে পারি নি। কিন্তু আমার সাথের অনেকে রাজনীতিটা লালন করে ধারণ করে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে এখনও রাজপথে উচ্চস্বরে জয় বাংলা বলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির উত্থান পতন, সুশৃঙ্খল বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা আমার নেই। তবুও ছাত্ররাজনীতি তার আর্দশ মূল্যবোধ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাক, দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগুক।
বিগত কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ মোতাবেক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দীর্ঘ প্রায় একদশকের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন মূলনীতি থাকার পরও কমিটি গুলো ভাঙ্গা ও নতুন কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে কেন এত সময়ের কালক্ষেপণ হয় তা উর্ধতন মহল জানেন।
তবুও এত সময়ের অপেক্ষা করে জীবনের জান মাল বিসর্জন দিয়ে যারা জয় বাংলা বলে রাজপথ মুখরিত রাখেন তাদের দিকে একটু নজর রাইখেন।
ত্যাগীরা মূল্যায়িত হোক, সুযোগসন্ধানী, ধান্ধাবাজ, লুটতরাজকারী, বিশৃঙ্খলাকারী নিপাত যাক। আর্দশিক, আধুনিক, সাবলীল ছাত্ররাজনীতির চর্চা হোক আমরা চাই।
আমার বন্ধু মোঃ খলিলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। গত কমিটিতে শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্বে থেকে পদ, আসনের যথার্থ মান রেখেছে। এখনও শাখা ছাত্রলীগের রাজপথ মুখরিত হয় তার স্লোগানে। আমার বন্ধুর জন্য খুব কষ্ট হয় মায়া হয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, ত্যাগ, মান সম্মান বিসর্জন দিয়েছে রাজনীতির জন্য। এখনও তার শরীরের ঘাম শুকানোর পূর্বে আবার ঘামে রাজনীতির মাঠে। শুধু সময়ের বিচার করলেই তার সময়ের মূল্যায়ন দেয়া উচিত। কষ্ট, শ্রম, ঘাম, মান সম্মান বিসর্জন বাদই দিলাম। কষ্ট করে ত্যাগ স্বীকার করে যারা মাঠে আছে তাদেরকে মাঠেই রাইখেন। আদর্শিক বীজ থেকে যেন চারা হয় চারা থেকে গাছ। সব ভাল কে ভাল রাখুন ভালবাসার ছায়াতলে।
আমার বন্ধুর জন্য নিরন্তর শুভকামনা ও ভালবাসা।

শিশির মাছুম
শিক্ষার্থী ; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।