ব্যারিস্টার নাজির কমিউনিটির আলোকিত ব্যক্তিত্ব

সাঈদ চৌধুরী :
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বিলেতে বাংলাদেশী কমিউনিটির আলোকিত নাম। সফল আইনজীবী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। আইনী সহায়তার ক্ষেত্রে যার খ্যাতি ও বিস্তৃতি সর্বত্র। টিভি টকশোতে তার সরব উপস্থিতি এবং আইনী বিশ্লেষণ বেশ জনপ্রিয়। প্রবাসীদের অধিকার সহ বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে থাকেন সামনের কাতারে। বিবেক ও নীতিবোধ থেকে কথা বলেন। দ্বিধাহীন সমালোচনা করেন সব অন্যায়ের।
ব্যারিস্টার ও কাউন্সিলার নাজির আহমদ রাজনীতি এবং সেবাকর্মে সক্রিয় ও নিবেদিত। জীবনের প্রতিটি স্তরে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী হিসেবে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কাছের মানুষ হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের, ভালোলাগার। এই ভালোলাগার বহিঃপ্রকাশ কীভাবে করতে হয় আমার জানা নেই। লন্ডনের নিউহাম বারার নির্বাচিত কাউন্সিলার হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ যত্ন সহকারে জনগনের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। নিউহামে দুই টার্মের নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার হিসেবে সফলতা দেখিয়েছেন। লাভ করেছেন প্রেস্টিজিয়াস সম্মাননা- ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন (ফ্রিম্যানশিপ)।
বৃটেনে ১২৩৭ সাল থেকে ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন (ফ্রিম্যানশিপ) সম্মাননা চালু রয়েছে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল সব নামি-দামি ব্যক্তিরা এ সম্মাননা পেয়ে থাকেন। ডিউক অব ক্যামব্রিজ প্রিন্স জর্জ, দক্ষিন আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, বেনজামিন ডিস্রাইলি, মার্গারেট থ্যাচার, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস ডায়ানা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমট কোহল, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেইট সহ প্রতিষ্ঠিত কুটনীতিক, রাজনীতিক, সংগীতশিল্পী, অভিনেতা এই সম্মাননা লাভ করেছেন।
ব্যারিষ্টার নাজির আহমদ লন্ডন কুইনমেরী ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি (অনার্স) ও একই ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে বিশ্বখ্যাত লিনকন্স ইন থেকে কৃতিত্বের সাথে বার-এট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্রিটেনের স্বনামধন্য চার্টার্ড ইনষ্টিটিউট অব্ আরবিট্রেটরস্‘র একজন ‘ফেলো‘। তিনি লন্ডন মেয়র অফিসের ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাস্টডি ভিজিটর এবং কুইনমেরী ইউনিভার্সিটির এলোমনাই এমবেসেডর হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থান পর্যবেক্ষন করেই এই দায়িত্ব প্রদান করে। এলামনাই অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করেন। উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যারিস্টার নাজির মুখ্য ভুমিকা রাখেন। কুইন মেরি হচ্ছে লন্ডনের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে ১৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী লেখা লেখাপড়া করে এবং স্টাফ সংখ্যা ৪শ’রও অধিক। প্রাক্তণ ছাত্র ও স্টাফ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচজন নোভেল পুরস্কার পেয়েছেন। কুইন মেরির লাইব্রেরি লন্ডনের মধ্যে অন্যতম বড়। এর ‘ল স্কুল’ বা আইন বিভাগ খুবই সমৃদ্ধ এবং ‘কমার্শিয়াল ল ডিপার্টমেন্ট’ ইউরোপের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
ব্যারিষ্টার নাজির আহমদ বললেন- আমার সৌভাগ্য যে, চারটি বছর এই খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছি। কুইন মেরিতে পড়াকালীন সময়ে সৌভাগ্যক্রমে পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় একাডেমিকদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি কিভাবে আইন পড়তে হয় ও বিশ্লেষণ করতে হয় এবং আইনী বিষয় নিয়ে লিখতে হয়। নেতৃস্থানীয় একাডেমিকদের মধ্যে রয়েছেন- প্রফেসর রজার কটট্রল, প্রফেসর জেরালডিন ভ্যান বুইরেন কিউসি (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং ফেলো ও জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশন ও রুলস ড্রাফট করেছেন), প্রফেসর জেনেভরা রিচার্ডসন (অক্সফোর্ড ‘সেন্টারে ফর সোসিও-লিগাল স্টাডিস’ এর প্রফেসর ছিলেন বর্তমানে লন্ডন ইউনিভার্সিটি কিংস’র প্রফেসর), প্রফেসর হিলারী বার্নেট এবং প্রফেসর কাথেরিন ও’ ডনভান। প্রফেসর রজার কটট্রল‘র ‘পলিটিক্স অফ জুরিসপ্রুডেন্স‘, প্রফেসর হিলারী বার্নেটের ‘কনস্টিটিউশনাল এন্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’ বিশ্বের শীর্ষ ও নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে জাতিসংঘ ও ইউকে সরকার এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে রিপোর্ট করার জন্য।
মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে দেশে এবং মননশীল মানুষ হিসেবে এখানে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আমার খুবই আপনজন। ২০০১ সালে সাপ্তাহিক ইউরো বাংলা প্রতিষ্ঠার সময় এবং ২০০৩ সালে ‘ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি‘, ২০০৭ সালে ‘ইউকে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ডাইরেক্টরি‘ এবং ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ডাইরেক্টরি ‘মুসলিম ইনডেক্স‘ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাকে অনেক প্রেরণা যুগিয়েছেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (বিডিআই) ইউকে এবং সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্ট সহ সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকান্ডে সহযোদ্ধা হিসেবে রেখেছেন অনন্য অবদান। আইন পেশার পাশাপাশি লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন সমান্তরাল ভাবে। ইমিগ্রেশন আইনের সমস্যা ও জটিলতা সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা এবং সম-সাময়িক বিষয়ের উপর লিখেন তিনি। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে তার পরামর্শ ও বিশ্লেষণ একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজিতে এ পর্যন্ত তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদের ‘বাস্তবতার নিরিখে সমকালীন প্রসঙ্গ’ শীরোনামে অধ্যাপক কবি ফরীদ আহমদ রেজা লিখেছেন, কৃতি ব্যারিস্টার নাজির আহমদ তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘বাস্তবতার নিরিখে সমকালীন প্রসঙ্গ’ নিয়ে পাঠকদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এটাই তাঁর প্রথম গ্রন্থ নয়, যতটুকু মনে হয় এটা তাঁর চতুর্থ গ্রন্থ। একজন সফল আইন ব্যবসায়ী ইচ্ছে করলে ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে ফাঁকে আরো বহু কাজ করতে পারেন, এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ব্যারিস্টার নাজির আহমদ। তাঁকে নিয়ে আমাদের গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিলাতে বাংলায় লেখালেখি করে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আইন পেশার মতো লাভজনক পেশায় থেকেও ব্যারিস্টার নাজির আহমদ দেশ ও জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে লেখালেখি করছেন, এ জন্যে তাঁকে অবশ্যই আমাদের সাধুবাদ জানাতে হবে। …
আলোচ্য গ্রন্থে মোট বিশটি লেখা আছে। লেখাগুলোর স্টাইল কলামধর্মী হলেও অনেক লেখায় প্রবন্ধ-সাহিত্যের গভীর বিষয় ও মেজাজ রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান একটি জটিল বিষয় এবং এর বিভিন্ন ধারা উপধারা নিয়ে আলোচনা করা সকলের কাজ নয়। প্রকাশিত গ্রন্থের অন্ততঃ চারটি লেখায় সংবিধানের বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ ব্যারিস্টার নাজির আহমদ নিজেকে বাংলাদেশের একজন সংবিধান-বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। …
বিশটি লেখার মধ্যে চারটি লেখার বিষয়বস্তু প্রবাসীদের সাথে সংশ্লিষ্ট। অবশিষ্ট ষোলটি লেখার বিষয়বস্তু বাংলাদেশের রাজনীতি, সংবিধান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি। ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণের সাথে সাথে লেখক রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক, প্রশাসন, বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ – সকলের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ রেখেছেন।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পরও দেশের সুখ-দুঃখ এবং সাফল্য-ব্যর্থতায় বিলাত-প্রবাসীরা সব সময় আবেগ-আপ্লুত হন। বাংলাদেশের কল্যাণ-চিন্তা তাদের দিবা-রাত্রির অনেকটা সময় দখল করে রাখে। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর ব্যতিক্রম নহেন। যদিও বাংলাদেশের সরকার বা সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের এ আবেগ-উচ্ছ্বাস অনুধাবন এবং এর মূল্যায়ণের দৃষ্টান্ত খুব একটা চোখে পড়ে না।
গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত লেখাগুলোর ধারাবাহিক শিরোনাম হচ্ছে- ১. বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশের সংবিধান ২. গভীর সংকটে দেশ: এর প্রধান কারণ ও উত্তরণের উপায় ৩. বিচারপতি মোস্তফা কামালঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচক্ষণ বিচারক ৪. ব্রিটিশ সিটিজেনশিপঃ আমাদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য ৫. মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা: আমাদের আবেগ ও বাস্তবতা ৬. পিলখানায় ইতিহাসের নির্মম হত্যাকান্ড: অনেক প্রশ্নের জবাব আজো মিলেনি ৭. সংবিধান, গণতন্ত্র ও আন্ত্রর্জাতিক আইনের আলোক ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন ৮. সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: সিলেটের উন্নয়ন ও‌ প্রাসঙ্গিক কথা ৯. স্বাভাবিক অবস্থায় রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে জরুরী অবস্থার প্রয়োজন ছিল ১০. বাংলাদেশে প্রয়োজন কঠোর তথ্যসন্ত্রাস বিরোধী আইন ১১. যুক্তি ও বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশে ন্যশনাল আইডি কার্ড ১২. বৃহত্তর সিলেট ও বিলেতে সিলেটী কমিউনিটিঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে জনশ্রুতি, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা ১৩. বিচারপতি মাহবুব মোর্শেদঃ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচারক ১৪.দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান ড্রাইভ ও আমার প্রাসঙ্গিক কথা, ১৫. ব্রিটিশ আইনঃ কমিউনিটির জিজ্ঞাসা, ১৬. স্বাধীনতা মাসের ভাবনাঃ জাতি হিসেবে আমাদের কোথায় যাওয়া উচিত ছিল? আর এখন কোথায় আমরা পড়ে আছি? ১৭. বাংলাদেশের জনগণের কাছে পুলিশ এক মূর্তিমান আতঙ্ক, ১৮. বিশ্বনাথ এডুকেশন ট্রাস্টের দুই দশক পূর্তিঃ সাফল্য ও প্রত্যাশা, ১৯. মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ড প্রতিরোধে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ২০. এমপি না হয়েও ব্রিটিশি নাগরিক বাংলাদেশের সরকার প্রধান হতে পারেন!
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ নানা বিষয়ে আলোচক হিসেবে সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহন করেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি এ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় ৫০টি দেশ সফর করেছেন। বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (বিবিসিসিআই), বাংলা‌দেশ ক্যাটারার্স অ্যাসো‌সি‌য়েশন (বি‌সিএ), কালেক্টিভ অব বৃটিশ বাংলাদেশী স্কুল গভর্নরস সহ বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি সর্বত্র এক বিশেষ অবস্থান ও আস্থার জায়গা তৈরী করে নিয়েছেন।
আলোকিত ব্যক্তিত্ব নাজির আহমদের দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাহারা দুবাগ গ্রামে। তার পিতার নাম আলহাজ মো: রফিজ আলী ও মাতা সিতাফ বিবি। ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ২য়। ১৯৯৭ সালে নাজির আহমদ সিলেট শহরের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী আলহাজ আকিকুর রহমানের মেয়ে সালমা আহমদকে জীবন সাথী হিসেবে গ্রহন করেন। তাদের ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে। সকলেই অধ্যয়ন রত। বড় দুই মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করছেন।