বিপাকে পড়েছেন কাঠ ব্যবসায়ী

বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের অভ্যন্তরের ১৪৩ টি বৃক্ষ নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করে বিপাকে পড়েছেন কাঠ ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কুদ্দুছ। ক্রয়কৃত বৃক্ষের মধ্যে ১১৪টি কাটতে পারলেও কাটিং অর্ডার না পাওয়ার অজুহাতে বাকি ২৯টি বৃক্ষ কাটতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে কর্তনকৃত বৃক্ষ পড়ে থাকায় এর ৯০ শতাংশই পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে, এ কারণে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করছেন তিনি।
রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুছ। নিজেকে একজন ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী জানিয়ে তিনি বন বিভাগের আগের কর্মকর্তা দিলোয়ার এবং অফিস সহকারী মোস্তফার অসৎ কর্মকান্ডের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ও ভবন নির্মাণের জন্য সরকার বরাদ্দ দেয়। এ ভবন নির্মাণ কাজের লে-আউটে বনজ বৃক্ষ থাকায় কাজের সুবিধার্থে বেতার সিলেট কেন্দ্র সেই বৃক্ষগুলো নিলামে দেয়ার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সিলেট বরাবরে পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ করে নিলাম কাজে সহযোগিতা করতে চিঠি দেয়। এরপরই ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধারে ৬৫ টি বৃক্ষের কাটিং ও বন অপসারণের জন্য আগের বন কর্মকর্তা দিলোয়ার অনুমোদন প্রদান করেন। কিন্তু কাজের ধরণ বেড়ে যাওয়াতে তিনি সরজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তীতে আরও ৭৮টি বৃক্ষ কাটার অনুমোদন প্রদান করেন। সবমিলিয়ে ১৪৩টি বৃক্ষ নিলামে বিক্রয়ের জন্য ২০১৯ সালের ৫ মে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেসার্স শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ বৃক্ষগুলো ক্রয় করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নিলাম পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংক সিলেট কর্পোরেট শাখায় পে অর্ডারের মাধ্যমে নিলামের টাকা জমা প্রদান করাও হয়। পরে একই মাসের ২১ তারিখে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র ১৫.৫৩.৯১০০.৩১৮.১৪.০০১.১৪-২০৮ নং স্বারকের মাধ্যমে বনজ বৃক্ষগুলো ১৫ দিনের মধ্যে কেটে বেতার ভবন থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন বেতার কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশনা পেয়ে ১১৪ টি বৃক্ষ কর্তন করা হয়। কিন্তু এরই মাঝে কাটিং অর্ডার পাওয়া যায়নি অজুহাতে বৃক্ষ কর্তনে বাঁধা প্রদান করা হলে অবশিষ্ট২৯টি বৃক্ষের কাটিং অর্ডার পাওয়া যায়নি অযুহাতে বৃক্ষ কর্তনে আমাদেরকে বাধা প্রদান করা হয়। কাটিং কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ৯০ শতাশং কাঠ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসানের মুখে পড়ি।’
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষগুলো না সরিয়েই গণপূর্ত অধিদপ্তর কন্সট্রাকশনের কাজ শুরু করে দেয়। এতে কাঠগুলো মাটি চাপা পড়ে পচে যায়। বিষয়টি তারা সিলেটের জেলা প্রশাসককেও জানিয়েছেন। এতে কোন কাজ না হওয়াতে তারা উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেন। উচ্চ আদালত ১ মাসের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার জন্য বেতার সিলেট কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অমান্য করে নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছে।’
আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ‘বনজ দ্রব্য নিলামে ক্রয় করেন মেসার্স শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে শাহজাহান এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে তিনি এসব কিনে নেন। তিনি একজন ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী। এ ব্যবসার মাধ্যমেই তার পরিবারের ভরণপোষণ চলে। কিন্তু বেতার ভবনের বৃক্ষ নিলামে নিয়ে কাঠ নিতে না পারায় তারা বিরাট লোকসানের মুখে পড়ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।