বসে কাজ মানসিক অবসাদ ডেকে আনে

সাহিত্য সিলেট

আফতাব চৌধুরী

সারাদিন এক জায়গায় বসে কাজ। চেয়ার, টেবিল আর কম্পিউটার ভরসা। ঘন্টার পর ঘন্টা চলছে চোখ আর আঙ্গুল। শরীরে কী কী রোগ বাসা বাঁধছে জানেন? কীভাবেই বা ঠেকাবেন সে-সব? সারাদিন একটানা বসে কাজ করতে হয় অনেক মানুষকেই। খুবই সচেতন থাকতে হবে এতে। প্রাথমিক কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া খুবই প্রয়োজন। একটানা কাজ করায় অস্থিসন্ধি, ¯œায়ু প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও নানা অসুখ ডেকে আনে।
ঠিক কী কী অসুখের শিকার হতে পারেন? অস্টিওপিনিয়া, অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআথ্রাইটিস এ সব অসুখ তো বটেই, সঙ্গে হাড়ের সন্ধিতে নানা জটিলতা আসতে পারে। ¯œায়ুর নানা সমস্যাও এ থেকে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। পেশিতে টান, ব্যথা এ সব তো হয়ই। এমনকি, দীর্ঘ সময় এভাবে বসে থেকে কাজ করায় হাঁটুতে ক্ষয় হয়। হাঁটু পালটানোর দিকেও যেতে পারে তা। এ ছাড়া, এক জায়গায় বসে কাজ মানসিক অবসাদও ডেকে আনে। একটানা এসিতে বসে থাকা মানেই বাইরে রোদে বেরনো কমে যাওয়া। এতে ভিটামিন ডি পায় না শরীর। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে হাড় এমনিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
দিনে মোটামুটি কতক্ষণ একভাবে বসে থাকলে এই সব অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়?
নিয়ম অনুসারে, একটানা এক ঘন্টার বেশি একভাবে বসা উচিত নয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, টানা সাত-আট ঘন্টা এভাবে বসে থাকলে এতে কতটা ক্ষতি করতে পারে। একভাবে বসে থাকলে হাড়ের অসুখ হয়, এ তো সকলের জানা। তবু তো উপায় নেই। তা হলে কি এর কোনও সমাধান নেই?
এমন করে বসে থাকা যদি পেশার অংশ হয়ে থাকে, তবে তা না-করে উপায় নেই। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এর মধ্যেই যাবতীয় সাবধানতাও নিতে হবে। জরুরী ব্যায়ামগুলোও সারতে হবে। জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনও আনতে হবে। একটানা বসে থাকতে হয় বলে অন্য সময় বেশ কিছু বাড়তি সতর্কতা মানতে হবে। কেবল তো বসে থাকাই নয়, কম্পিউটারে সারাক্ষণ কাজ করেও যেতে হয় অনেককে। সে-ক্ষেত্রেও তো হাতের পেশি, হাড়ে নানা সমস্যা হয়।
কম্পিউটারে কীভাবে কাজ করছেন, সেটা খুব দরকারি। যে টেবিলে কম্পিউটার রাখা আছে, তার উচ্চতা যেন কোমরের স্তরে থাকে। এমন উচ্চতার চেয়ারে বসতে হবে যেন দু’পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকে। মাউস ধরার সময় হাতের কব্জি যেন টেবিলের সাপোর্ট পায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
হাতের কব্জিতে ট্রায়াঙ্গুলার ফাইব্রোকার্টিলেজ কমেপ্লেক্স (টিএফসিসি) খুব প্রচলিত অসুখ আজকাল। টেনিস এলবোও হতে পারে এ থেকে। কব্জি ও কনুইয়ের ক্ষতি এড়াতে মেনে চলুন জরুরি ব্যায়াম।
এ থেকে নিস্কৃতির উপায় ঃ
মাউস ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বসার বেসিক নিয়ম মানতে হবে। আর জরুরি কিছু ব্যায়ামও করতে হবে রোজ। অন্য কোনও অসুবিধা না থাকলে ক্যালশিয়াম ঔষুধও খেতে পারেন রোগ এড়াতে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারদাবারও পাতে রাখুন। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এমন খাবার খান।
সমস্যা এড়াতে কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে-ক্স একটানা বসে থাকার সময় মাঝে মাঝে এক হাঁটুর উপর অন্য পা তুলে বসুন। এ ভাবে অনেকক্ষণ বসবেন না। কিছুক্ষণ বসার পর পা নামান। ক্স প্রতি এক ঘন্টা অন্তর সিট ছেড়ে উঠুন। ক্স যাদের ইতিমধ্যেই হাড়ের অসুখ রয়েছে, তারা একটানা বসে থাকতে গেলে একটা নি-ক্যাপ পরুন। ক্স হাঁটাহাটি করে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে আসুন, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আসুন। এটুকু করতেই হবে। ক্স রোদ লাগান শরীরে। টিফিনের সময় বা মাঝে মাঝেই বাইরে বেরিয়ে মিনিট পাঁচ-সাত কাটিয়ে আসুন। এতে কাজের কোন ক্ষতি হয় না। ক্স চেয়ারে বসে বসে লেফট রাইট করা, বা একটু উঠে মিনিট দুই-তিন স্পট জগিং করে এলেও পেশির সঞ্চালন হবে। এতে পেশীর স্টিফনেস কাটে। ক্স হাঁটতে হবে অন্য সময়। পেশির জোর বাড়াতে স্ট্রেচিং ও আইসোমেট্রিক জাতীয় কিছু ব্যায়াম করতে পারেন যা করার আগে অবশ্যই ফিজিক্যাল ট্রেনারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
একটানা কম্পিউটারে যারা কাজ করেন তারা যেসব ব্যায়াম করবেন-ক্স এ ক্ষেত্রে খুব ভালো স্মাইলি বল। অফিস ডেস্কে রাখুন। কাজের মাঝে পনেরো-বিশ সেকেন্ড ধরে চাপ দিন তাতে। ক্স যাদের ইতিমধ্যেই টিএফসিসি আছে, তাদের ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি, মাঝে মাঝে আলট্রাসাউন্ড নিন, এতে অনেকটা উপকার মেলে। এ ছাড়া, কম্পিউটারে বসে কাজ করার পাশাপাশি রিস্ট ব্যান্ড পরুন। ক্স যখনই সিট ছেড়ে উঠবেন,তখন পারলে ফ্রি হ্যান্ড করে নিন। ক্স যখনই সিট ছেড়ে উঠবেন, তখন পারলে ফ্রি হ্যান্ড করে নিন। ক্স চেষ্টা করুন বাকি সময়টা মোবাইলে টেক্সট করা কমাতে আর বাড়ি ফিরে কম্পিউটারে বসা এড়িয়ে চলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *