পুরো সিলেট নগর এখন ঈদবাজার

ঈদের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। যত দিন ঘনিয়ে আসছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ঈদবাজার তত জমে উঠছে। পুরো সিলেট নগর যেন এখন ঈদবাজার। বেলা ১১টা থেকে সাহরি পর্যন্ত চলে ঈদের কেনাকাটা। বিশেষ করে রাতে তারাবির নামাজের পর মূলত ঈদবাজার জমে উঠছে। দিনে তীব্র গরমের কারণে রাতের কেনাকাটাকে স্বস্তিদায়ক মনে করছেন ক্রেতারা।

আর এ কারণে রাতে নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, নয়াসড়ক ও নাইওরপুল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাত ১০টার পর নগরের প্রধান সড়কগুলোতে যেন যানবাহনগুলো আর চলে না। আর সড়কের পাশ দিয়ে মানুষ ছুটছে মিছিলের মতো। এসব মানুষের প্রায় সকলের হাতেই শপিং ব্যাগ।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে নগরবাসীর ঈদের কেনাকাটা যেন ততই জমে উঠছে। একাকার হয়ে যাচ্ছে রাত দিন। বড় বড় শপিংমল আর ফ্যাশন হাউসগুলোতে হুড়মুড় করে ঢুকছেন আর বেরুচ্ছেন ক্রেতারা। তবে অধিকাংশ মার্কেটে ইফতারের পর থেকেই জমে বিকিকিনি।

নগরের আল হামরা শপিংমল, ব্লু-ওয়াটার, সিটি সেন্টার, মধুবন, মাহা, আড়ং, দেশিদশসহ কয়েকটি মার্কেট ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে নানা ধরনের পোশাক থাকলেও এবার অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশি ও ভারতীয় সুতি পোশাকের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি অন্যান্য পোশাকের চাহিদাও রয়েছে। পরিবারের সবার জন্য নতুন কাপড় কিনতে বিপণী বিতানগুলোতে ঘুরে ঘুরে পোশাক কিনছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুধু বড়রাই নয় পছন্দ মতো পোশাক কিনতে মা-বাবার সঙ্গে দোকানে ভিড় করছে শিশুরাও।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদে পোশাকে কিছুটা নতুনত্ব এসেছে। পোশাকের পাশাপাশি নিত্যনতুন জুতা-স্যান্ডেলের প্রতি চাহিদা রয়েছে প্রচুর। মেয়েদের জন্য দামি ঈদের পোশাকের ছড়াছড়ি দেখা গেছে বড় বড় বিপণীবিতানগুলোতে।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, জুতা-স্যান্ডেল, জুয়েলারি এবং কসমেটিকসও কিনছেন। এছাড়া সুতি ও সিল্কের পাঞ্জাবি, থ্রি-পিছ, শিশুদের রেডিমেড জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পোশাকের মধ্যে সুতি ও বুটিক্স পোশাক রয়েছে চাহিদার শীর্ষে। এছাড়াও কামিজসহ বিভিন্ন পোশাক থাকলেও দামের দিক থেকে কিছুটা সাশ্রয় হওয়ায় নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ি।

বাজারে ছেলেদের নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারি ডিজাইনের নানা বৈচিত্র্যের পাঞ্জাবিও বেশ বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, চায়না গ্যাবাডিন, ফরমাল প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট ও শেরওয়ানি।

শাহিদা জামান নামে এক নারী ক্রেতা বলেন, নিজের পছন্দসই ড্রেস কিনলাম। এখন ঘুরে ঘুরে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ঈদের কাপড় কিনব। এবারের ঈদবাজারে জামার দাম তুলনামূলক নাগালের মধ্যে আছে।

মোস্তাফিজ রুম্মান নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এবার পাঞ্জাবির কালেকশন অনেক বেশি। এর থেকে পছন্দ করে সুতি একটি পাঞ্জাবি কিনব। যদিও এবারে পাঞ্জাবির দাম গত বছরের থেকে একটু বেশি তারপরও ঈদ বলে কথা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অত্যাধুনিক ডিজাইনের পোশাক আনায় ছেলেদের পাঞ্জাবির দাম একটু বেশি।

শুকরিয়া মার্কেটের রেডিমেড কাপড়ের দোকানদার তামিম ফ্যাশনের স্বত্তাধিকারী হেলাল বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদ বাজারে ভারতীয় ছবি-সিরিয়ালের নায়িকাদের পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা কাপড় বাজারে না থাকলেও ভারতীয় পোশাকের চাহিদা রয়েছে। ভারতীয় পোশাকের মধ্যে সুতি কাপড়ের চাহিদাটা বেশি রয়েছে। মূলত গরমের কারণেই ক্রেতারা এ সুতির কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন বেশি।

আল হামরা শপিং সিটির ব্যবসায়ী সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ বলেন, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বেচা-বিক্রি ততই বাড়ছে। দিনের বেলা ব্যবসা ততটা ভালো না হলেও রাতে বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। জাগো নিউজ