তাইওয়ানকে সাড়ে ৭ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক

করোনা টিকার ঘাটতিতে ভুগতে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে টিকার ডোজ বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ধারবাহিকতায় তাইওয়ানকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার (৬ জুন) তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের সংশান বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিনেটের অপর দুই সদস্য ড্যান ‍সুলিভান এবং ক্রিস্টোফার কুন। তিন ঘণ্টার এক সংক্ষিপ্ত সফরে তাইওয়ানে গিয়েছিলেন তারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্যামি ডাকওয়ার্থ বলেন, ‘তাইওয়ানের বর্তমান টিকার ঘাটতি সমস্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। এ কারণেই বন্ধুত্বের নির্দশন হিসেবে প্রথম দফায় টিকার এই ডোজগুলো পাঠানো হবে। তাইওয়ানের সঙ্গে মিত্রতাকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়।’

এ সময় ডাকওয়ার্থের পাশে উপস্থিত ছিলেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ। ডাকওয়ার্থ টিকার ডোজ প্রদানের আশ্বাস দেওয়ার পর তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জোসেফ উ বলেন, ‘আমরা এই টিকার ডোজগুলো ফ্রিতে পাচ্ছি। আমাদের গণটিকাদান কর্মসূচি খুব দ্রুতই নতুন গতিবেগে পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে।’

দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই লেং ওয়েন পরে এক বার্তায় বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রদানের এই প্রস্তাবকে খরতপ্ত দিনে বৃষ্টির আগমনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো তাইওয়ানেও করোনা টিকার ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

এই ৩ শতাংশের অধিকাংশই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। ঘাটতির কারণে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারছে না তাইওয়ানের সরকার।

দেশটির সরকারি পর্যায়ের একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘাটতি মেটাতে সরকার বেশ কয়েকবার টিকা আমদানির চেষ্টা করেছে কিন্তু চীনের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। চীন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

একসময়ের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ তাইওয়ান বর্তমানে চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে আছে। তবে দেশটির জনগণ বরাবরই চীনের এই দখল-দারী মনোভাবের বিরোধী। তারা আবার স্বাধীনতা ফিরে পেতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খা ও সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক, তার জেরেই তাইওয়ানের স্বাধিকার সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

তাইওয়ানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে চীন তাইওয়ানকে তাদের দেশীয় টিকা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু টিকার মান নিয়ে সংশয় এবং তাইওয়ানের আইনে চীনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি তাইওয়ানের সরকার। সূত্র: রয়টার্স