জলবায়ু পরিবর্তনের হূমকিতে থাকা বাংলাদেশ অন্যতম

জাতীয় শীর্ষ খবর

বর্ণিল আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ও বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে দুই পর্বে এই অনুষ্ঠান হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় ‘বি’ ইউনিটের নবীনবরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি এবং বিকেল আড়াইটায় ‘এ’ ইউনিটের নবীনবরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি।
অনুষ্ঠানের উভয় পর্বে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবি’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিন।
সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি বলেন, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ হূমকিতে রয়েছে। এ তালিকায় ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তিনি বলেন, আমাদের বৃক্ষনিধন বন্ধ করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। বৃক্ষনিধনের কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে প্লাস্টিক, পলিথিন ও পরিবেশ দূষণকারী বিভিন্ন জিনিস বর্জন করে পাটের জিনিস ব্যবহার করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর ক্ষতি থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। সুন্দরবন কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের ৫ জুন বিশ^ পরিবেশ দিবসে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে এক কোটি গাছ লাগানো হবে। বৃক্ষরোপণ করে আমাদেরকে বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হবে।
বিকেলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি বলেন, দেশকে জানার জন্য অন্যতম উপায় হল ভ্রমণ করা। আমাদের দেশ পর্যটনের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ। দেশকে পর্যটকদের জন্য আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা ১৮ মাসব্যাপী কাজ করে একটি রিপোর্ট তৈরি করবে এবং তা আগামী বছরের জুন মাসে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা পর্যটনখাতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে আরও আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ, টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যাতে সরাসরি সবচেয়ে বড় বিমান বোয়িং-৭৭৭ উঠানামা করতে পারে। তখন বিশে^র অনেক দেশে সরাসরি এখান থেকে বিমানে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বিশ^বিদ্যালয় সুশাসনের ক্ষেত্রে রোল মডেল। এখানে জঙ্গীবাদ, যৌন হয়রানি, র‌্যাগিং এবং মাদকের কোন স্থান নেই। যাদের বিরুদ্ধে এই সকল বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যাবে-তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে শাবি সারাদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর এই কারণে শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল ক্যাম্পাস হিসেবে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, এপ্ল্যায়েড সায়েন্সেস এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুসতাক আহমেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফয়সল আহম্মেদ, ম্যানেজমেন্ট এন্ড বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি নিরোধ সেলের প্রধান অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, এ বছর শাবিতে ১৭০৩ টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৭০৫৬২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *