চুনারুঘাটে রেমা বনাঞ্চলে গাছ চুরির মহোৎসব

সার্ভিস ক্লাব সিলেট

বিরান ভুমিতে পরিণত হচ্ছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা বনাঞ্চল। চোরাকারবারী রাজনৈতিক দলের নেতা ও এক শ্রেণীর সরকারি বন কর্মকর্তার দূর্নীতির কারণে দিন দিন উজার হচ্ছে এ বনাঞ্চল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হলে আগামী কয়েক বছরেই বনাঞ্চলে গাছ পালা বলতে কিছু থাকবে না। ইতিমধ্যে রেমা বন বিট উজার হয়ে গেছে। হবিগঞ্জ জেলার বনাঞ্চলের আয়তন ৩৬ হাজার একর । রেমা বনাঞ্চলের প্রায় ৯৫ ভাগ জায়গাতেই বন বিভাগে সেগুন, গর্জন, শাল, গামার, জারুল, আকাশ মনি, বেলজিয়াম, লোহা কাঠ, আগর, চাপালিশ, বাঁশ, বেত জাতীয় গাছ সৃজন করেছে। শত কোটি টাকা এই বন সম্পদ লোটে নিতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় গড়ে উঠেছে বন দস্যু। এরা সুযোগ বুঝে দিনে অথবা রাতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান গাছ। প্রতিদিন রাতের আধারে ট্রলি ট্রাক যোগে লাখ লাখ টাকার গাছ পাচার হলেও বন বিভাগ অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করছে। গাছ কাটা, পাচার পর্যন্ত সমস্ত কিছুই হচ্ছে নগদ নারায়নের মাধ্যমে। রেমা বন বিভাগের বিট অফিসার মোঃ আনিছুর রহমান, বন প্রহরী ও ভিলেজারদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতায় গাছ পাচার চলছে। রেমা বিট ঘুরে দেখা গেছে চোরা কারবারীরা গহীন বন থেকে গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য। অবৈধ গাছ গুলো প্রকাশ্যেই ঠেলা গাড়ি, রিকশা বা ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয় চুনারুঘাট, মিরপুর, বাহুবলসহ বিভিন্ন করাত কলে। সেখান থেকে পাচার হয় হবিগঞ্জ সহ সারা দেশে। স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের কে বন আইনে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। বিট অফিসার মোঃ আনিছুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার এখানে গাছ চুরি নেই বললেই চলে। কিন্তু লোকবলের অভাবে কিছু গাছ পাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভিলেজারদের অনেকবার সতর্ক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। ২০১৯ সালে বন আইনে কতটি মামলা এবং কত জন গাছ চোরকে আটক করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন পরে যোগাযোগ করবেন। তিনি তথ্য দিতে অনেকটা অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *