ইরানে ফল ঘোষণার আগেই রাইসির জয় মেনে নিল বিরোধীরা

বিশ্ব শীর্ষ খবর

ইরানের প্রেসিডেন্ট ‘নির্বাচিত’ হওয়ায় কট্টরপন্থী রক্ষণশীল নেতা ইব্রাহিম রাইসি অভিনন্দন পাচ্ছেন। এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা না করা হলেও বিরোধীরা ইতিমধ্যে ফল মেনে নিয়েছেন এবং রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কট্টর ডানপন্থী আরও দুই প্রার্থী মহসেন রেজাই ও আমির হোসেন ঘাজিজাদ্দেহ হাসেমি। তাঁরা দুজনই রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মধ্যপন্থী আবদুল নাসের হেমাতিও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে রাইসির প্রশাসন ইরানকে এগিয়ে নেবে। দেশের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।’ হেমাতি ছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান।

এদিকে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ফলে, নির্বাচন বয়কটও করেছিলেন তিনি। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, তিনি এই নির্বাচনে ভোট দেবেন না। আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমি এই অপরাধের ভাগীদার হতে চাই না।’

রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের ইচ্ছাকে অভিনন্দন জানাই। আমার আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন পরে আসবে। তবে আমরা জানি, কে জয়ী হয়েছেন এবং নির্বাচিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভোট পেয়েছেন।’

গতকাল শুক্রবার দেশটিতে ভোট হয়। আজ শনিবার আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করার কথা। তবে তার আগেই অভিনন্দিত হচ্ছেন রাইসি। আগামী আগস্টে রুহানির কাছ থেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেবেন তিনি।

পারমাণবিক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের এবারের নির্বাচন শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। কেননা, ভিয়েনায় ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে তেহরান। পারমাণবিক প্রকল্প থেকে সরে আসা, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া—এটা নিয়ে চলছে দর-কষাকষি। তাই এই আলোচনার ভাগ্য নির্ধারণে ইরানের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পায়নি নির্বাচন। ফলে, ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়। কারণ, ধারণা করা হচ্ছিল, এবারের নির্বাচনে ৫০ শতাংশের নিচে ভোট পড়তে পারে।

ইরানে ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে কতজন ভোট দিয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি। নির্বাচনের আংশিক ফলাফল থেকে জানান গেছে, ২ কোটি ৮৬ লাখ ভোট গণনা হয়েছে। তার মধ্যে ১ কোটি ৭৮ লাখ ভোট পেয়েছেন রাইসি। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবেন মহসেন রেজাই। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৩ লাখ। ইরানের ইলেকশন অফিসের চেয়ারম্যান জামাল ওরফ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি। এবারের নির্বাচনে দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও রক্ষণশীল রাজনীতিকদের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তিনি ২০১৭ সালের নির্বাচনেও প্রেসিডেন্ট হতে লড়েছিলেন। তবে হাসান রুহানির বিরুদ্ধে জয় পাননি। সেবার তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৩৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে।