আমিরাত শাসকের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া ২ সন্তান নিয়ে পালিয়েছেন

বিশ্ব শীর্ষ খবর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের কোটিপতি শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমকে ছেড়ে পালিয়েছেন তার ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইন। দুই সন্তানসহ প্রায় ৩১ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে তিনি আরব আমিরাত ছেড়ে লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।

দেশটির কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া লন্ডনে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎ বোন। ১১ বছরের সন্তান জলিলা ও সাত বছরের জায়েদকে নিয়ে প্রথমে জার্মানিতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুবাইয়ের শাসকের কাছে তালাক চেয়েছিলেন হায়া।

পরে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চান তিনি। জার্মানিতে নতুন জীবন শুরু করতে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক করা প্রিন্সেস হায়াকে গত ২০ মে থেকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছিল না। বিভিন্ন দাতব্য কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত প্রিন্সেস হায়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টও ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। সাধারণত এসব অ্যাকাউন্টে তার সমাজসেবামূলক কাজের অনেক ছবি দেখা যেত।

আরব দেশগুলোর গণমাধ্যম বলছে, দুবাই থেকে পালিয়ে যেতে প্রিন্সেস হায়াকে সহায়তা করেছেন জার্মানির এক কূটনীতিক। এ নিয়ে জার্মানির সঙ্গে আমিরাতের কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্ত্রীকে দুবাইয়ে ফেরত পাঠাতে জার্মানির কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের শেক মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুম। কিন্তু জার্মান কর্তৃপক্ষ তার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। দুবাইয়ের রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র বলছে, প্রিন্সেস হায়া দেশ ত্যাগ করেছেন এবং তালাক চাইছেন।

এর আগে দুবায়ের এই শাসকের কন্যা প্রিন্সেস লতিফা আমিরাত চেঢ়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে ভারতীয় উপকূলে একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়। তখন থেকে তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে আটকের পর আরব আমিরাতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রিন্সেস লতিফা বলেছিলেন, নিপীড়নের কারণে তিনি আরব আমিরাত ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, দুবাইয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে তাকে।

সূত্র : ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *